অভিযোগের পাহাড় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেই বিতর্কিত নেতা রাসেলের বিরুদ্ধে!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৩০
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১০ আগস্ট, ২০২১, ৪:১৩ অপরাহ্ন

এন এ জোহা, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শাখার বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বামনডাঙ্গা আঞ্চলিক ছাত্রদলের ২০০১ সালে যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং ২০০৩ সালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা ছাত্র দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে । তাছাড়াও বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের ঘটনায় রাসেলের বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় জিআর ২৭৫/২০১০ নং মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে অভিযোগ সূত্র জানা গেছে।

অভিযোগের জের ধরে গণমাধ্যমে উপজেলার কর্মরত সংবাদকর্মীরা সংবাদ প্রচার করলে ছাত্রদল তথা বিএনপির তকমা গা থেকে মুছে ফেলতে গাইবান্ধা জেলা শহরে আব্দুল্লাহ আল মেহেদী রাসেল করেছেন দু’দুটি পৃথক পৃথক সংবাদ সম্মেলন। সংবাদ সম্মেলনে রাসেল দাবী করেন ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০১ সালে এসএসসি পাস করেন বিতর্কিত নেতা রাসেল। ৭ম কিংবা ৮ম শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় রাসেল কিভাবে ছাত্রলীগ কর্মী হলেন? এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ রাজনীতিবীদগণ।

অপরদিকে গণমাধ্যম কর্মীদের হাতে আসে তৎকালীন সময়ে উপজেলার ৬ নং সর্বানন্দ ইউনিয়ন শাখার ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ছাত্র লীগে দায়িত্বে থাকা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ ও প্রত্যয়নপত্র। লিখিত অভিযোগে জানা যায়,রাসেল বিগত বছর থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত অত্র ইউনিয়ন কিংবা ওয়ার্ড এর ছাত্র লীগের কোনো কর্মী কিংবা পদে ছিলেন না। বরং রাসেল বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্র দলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকে ছাত্র লীগের পথের কাটা ছিলেন বলে জোড়ালো অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কোথায় রাসেল ছাত্র লীগের কর্মী কিংবা নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো? এ নিয়ে এখন সমালোচনা বইছে সকলের মুখে মুখে।

বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা গেছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কিংবা এ দলের সহোযোগী সংগঠনের বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে সরকার। দেশজুড়ে হাইব্রিডদের তালিকা প্রণয়ন প্রস্তুত চলছে। সংগঠনকে মজবুত করতে ও ত্যাগিদের মূল্যায়নে আওয়ামী লীগ আছে হার্ডলাইনে। এজন্য সুবিধাবাদী-প্রতারক-অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি।

দলীয় সূত্র বলছে, হাইব্রিড, অনুপ্রবেশকারী আর দলকে ব্যবহার করে যারা অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতা করছেন তাদের চিহ্নিত করা হবে। সাংগঠনিকভাবে এ ধরনের নেতাদের খুঁজে বের করবে আওয়ামী লীগ। দলের কিছু নেতার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

দুর্নীতি ও অনুপ্রবেশকারীদের সম্পর্কে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি যে ক্রমাগত অবান্তর কথা বলে সাহেদের গ্রেফতারে তা প্রমাণ হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কে কোন দল বা মতের সেটি কখনোই দেখা হয়নি। যদি আওয়ামী লীগের কেউ হয়, এমনকি পদধারী নেতাও যদি হন, তার বিরুদ্ধেও কিন্তু অতীতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এখানো প্রমাণ মিললে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তৃণমূলের বেশ ক’জন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা বলেন, বিএনপি-জামায়াত থেকেও ভয়ঙ্কর নব্য আওয়ামী লীগ। এরা সুযোগসন্ধানী। যাদের কখনও সভা-সমাবেশে দেখিনি তারাও এখন আওয়ামী লীগ করে। দলের দুঃসময়ের ত্যাগী ও আদর্শিক নেতাকর্মীরাও এসব অনুপ্রবেশকারীর দাপটের কাছে অসহায়।

এদিকে রাসেলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় কমিটিসহ জেলা, উপজেলা কমিটির নিকট অভিযোগ করেছেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর
এক ক্লিকে বিভাগের খবর